৮০/২০ মজুত গতিশীলতার নিয়ম: প্রায় প্রতিটি মুদি, পোশাক বা খুচরো দোকানে দৈনন্দিন আয়ের প্রায় ৮০% আসে মাত্র ২০% দ্রুত বিক্রিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে—যেমন চাল, ডাল, তেল, চিনি, সাবান বা নিয়মিত সুতির কাপড়। অন্যদিকে, শৌখিন বা কম বিক্রিত সামগ্রী দোকানের মূল্যবান চলতি মূলধন অকেজো করে আটকে রাখে।
আটকে থাকা অলস মূলধনের ঝুঁকি: যে পণ্য ৬০ থেকে ৯০ দিনের বেশি তাক বা গোডাউনে পড়ে থাকে, তা মূলত 'অলস জমে থাকা টাকা'। এই পণ্য ধুলো জমে নষ্ট হয়, দোকানের মূল্যবান জায়গা দখল করে এবং অনেক সময় মেয়াদের তারিখ পার হয়ে আর্থিক লোকসান ডেকে আনে। ফলে নিয়মিত ক্রেতাদের দরকারি পণ্য তোলার জন্য হাতে টাকা থাকে না।
পাইকারি অতিরিক্ত ডিসকাউন্টের ফাঁদ: পাইকারি মহাজন প্রায়ই বলেন: '১টি কার্টনের বদলে ১০টি কার্টন একবারে নিলে ৫% বেশি ছাড় পাবেন।' কিন্তু ১০টি কার্টন বিক্রি করতে যদি আপনার চার মাস সময় লেগে যায়, তবে আটকে থাকা টাকার সুদ ও সুযোগ-খরচ ওই ৫% ছাড়ের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে দাঁড়ায়! তাই এমন পরিমাণেই পণ্য তুলুন যা ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে বিক্রি হয়ে যায়।
এফআইএফও (আগে আসা মাল আগে বিক্রি) নিয়ম: পাইকারি বাজার থেকে নতুন মাল আসার পর নতুন প্যাকেট সবসময় পুরোনো মজুতের পিছনে রাখুন। আগের মজুত আগে বিক্রি করলে সামগ্রীর সতেজতা বজায় থাকে, মেয়াদ শেষ হয়ে নষ্ট হওয়া আটকায় এবং আর্দ্র আবহাওয়ায় প্যাকেটের ক্ষতি হওয়া রোধ করা যায়।
সাপ্তাহিক ১৫ মিনিটের তাক নিরীক্ষা: প্রতি সোমবার সকালে একটি দ্রুত সমীক্ষা চালান: কোন পণ্যটি গত ১৫ দিনে একেবারেই বিক্রি হয়নি তা চিহ্নিত করুন। সামান্য ছাড় দিয়ে সেই পণ্য দ্রুত বিক্রি করে নগদ টাকা পুনরুদ্ধার করুন এবং সেই টাকা দ্রুত বিক্রিত চাহিদাসম্পন্ন পণ্যে পুনঃবিনিয়োগ করুন।
